Header Ads

ভাষার বহিঃপ্রকাশ

সন্তানের প্রতি পিতামাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য

সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। তারা কেবল একটি শিশুর জন্মদাতা নন, বরং তার শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশের প্রধান অভিভাবকও। সন্তানকে কোন মাধ্যমে শিক্ষিত করবেন—ইংরেজি মিডিয়াম নাকি বাংলা মিডিয়াম—তা আসলে গৌণ বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ।

প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ, সন্তানের অনুভূতি ও ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। তাদের শিশুকালটিকে শুধুমাত্র পড়াশোনার চাপে ভারাক্রান্ত করবেন না।সকাল বিকাল পড়া-পড়া করে তার শিশুকালটা নষ্ট করবেন না।  ছোট থেকেই তাদেরকে ভালো আচরণ ও শিষ্টাচারের শিক্ষা দিন। বড় হয়ে তাহলে ভালো আচরণ করবে।ভালো ভাষায় কথা বলবে। মনে রাখবেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার ছোটবেলার অভিজ্ঞতার ওপরই ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

সন্তানের ভালো আচরণ গঠনের মূলনীতি

১. ভাষা ও ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিন: - শিশুরা অনুকরণের মাধ্যমে শেখে। আপনি যদি সুন্দর ও শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেন, তবে আপনার সন্তানও তা অনুসরণ করবে। আজকে যে ভাষায় কথা বলবেন কালকে আপনার সন্তান ঠিক সে ভাষাতেই কথা বলবে। - তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, রূঢ় ব্যবহার বা অশ্রদ্ধার ভাষা কখনোই সন্তানের সামনে ব্যবহার করবেন না।

২. সহমর্মিতা ও উদারতা শেখান: - টিফিন বা খাবার দিলে এমন পরিমাণ দিন যেন সে বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেতে পারে। কম হলেও সমস্যা নেই; শুধু কাউকে দিতে নিষেধ করবেন না তাহলেই হবে।- সন্তানকে কখনোই স্বার্থপর হতে শেখাবেন না। তাকে বোঝান যে অন্যদের সাহায্য করা একটি মহৎ গুণ।

৩. সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিন: - শুধু পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বললেই চলবে না, তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো জরুরি। - তাকে বলুন, সততা, দয়া ও দায়িত্বশীলতা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ।

৪. ভবিষ্যৎ আচরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন: - আজ আপনি সন্তানের সাথে যেমন আচরণ করবেন, সে বড় হয়ে আপনার সাথে তেমনটাই করবে।যদি শিক্ষা দেন কাউকে কোন কিছু দিতে হয় না। - যদি আপনি তাকে স্বার্থপরতা শেখান, তাহলে একদিন সে নিজেও স্বার্থপর হয়ে উঠবে এবং আপনি বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হলে সে আপনার ভরনপোষণের দায়িত্ব সে কখনোই নিবেনা। - এজন্যই প্রতিদিন অসংখ্য বাবা-মা তাদের সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা ও বিতাড়িত হওয়ার কষ্ট ভোগ করেন।

সন্তানের জন্য দোয়া করা

পিতা-মাতা শুধু শিক্ষা ও শাসন দিয়ে সন্তানের সঠিক পথনির্দেশ করতে পারেন না, বরং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়াও করতে হয়। মহান আল্লাহ বলেন—

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
"হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নেককার সন্তান দান করুন।" (সূরা সফফাত, আয়াত : ১০০)

নেক সন্তান শুধু পিতামাতার জন্য নয়, বরং সমাজ ও জাতির জন্যও কল্যাণকর। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো, সন্তানদের উত্তম শিক্ষা ও মূল্যবোধে গড়ে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠে।

পিতামাতার কর্তব্য ও সন্তানের প্রতিদান

সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা নিঃস্বার্থ। কিন্তু পিতামাতার সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক সন্তান বড় হয়ে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলে। যারা শৈশবে স্নেহ-মমতা ও নৈতিক শিক্ষা পায়নি, তারা ভবিষ্যতে নিজেদের অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী থাকে না। এজন্যই ইসলাম সন্তানদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও সঠিক দীক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আমরা যদি পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারি, তাহলে আমাদের সন্তানরাও একদিন আমাদের যত্ন নেবে, সম্মান করবে এবং আমাদের জন্য দোয়া করবে। একজন ভালো সন্তানই একজন ভালো সমাজ গঠনের প্রধান স্তম্ভ। তাই আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের ভালোবাসা, নৈতিকতা ও উদারতার শিক্ষা দেই, যেন তারা মানবিক গুণাবলিতে গড়ে ওঠে এবং আমাদের জন্য গর্বের কারণ হয়।


No comments

Theme images by Roofoo. Powered by Blogger.